বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায়। আগামী বুধবার দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে বিএনপি। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী করা হয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি বিষয়ে চলছে নানা আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে নানা তথ্য ছড়াচ্ছে, যার বেশিরভাগই কল্পনাপ্রসূত।
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে যাদের নিয়ে আলোচনা, তাদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ছাড়াও ড. আবদুল মঈন খান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন আর নজরুল ইসলাম খানের মতো জ্যেষ্ঠ নেতাদের নামও আসছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দুটি মনোনয়ন ফরম কিনেছে বিএনপি। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কর্নেল অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণার পর বিষয়টিও এক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ৩৫ বছর পর নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বাচাইয়ের ক্ষেত্র তৈরি হওয়ারকে ইতিবাচক বলছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, 'কাকে মনোনয়ন দিবেন, এই জায়গাটা হয়তো বিএনপি'র অভ্যন্তরীণ একটা প্রতিযোগিতা আছে। আর তাছাড়া কর্নেল অলি-কে সামনে এনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে একজনকে তুলনা করার সুযোগ করে দিয়েছে, সেটা কিন্তু আগামীর রাজনীতির জন্য চমৎকার একটা মাইলফলক হবে বলে আমার বিশ্বাস।
বিশ্লেষকদের আশা, সংসদ সদস্যরা এমন কাউকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন, যার রাজনৈতিক ত্যাগের পাশাপাশি সব মহলে গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, 'একজন রাজনীতিক, (যিনি) বিদগ্ধ, পরিচ্ছন্ন এবং ন্যায়পরায়ণ এবং অন্যান্য পার্টির মধ্যে গ্রহণযোগ্য- এমন একটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (নির্বাচিত) হোক, সেটা কিন্তু জাতির চাওয়া হবে। (এটা) আগামীর গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যকর পরিবেশের দ্বার উন্মোচন করবে।'
রাজনৈতিক ত্যাগের ক্ষেত্রেও অনেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাল্লাই ভারী মনে করছেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের লন্ডনে থাকা এবং বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সময় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসছে।