ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের দাপুটে পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয় টেস্টের একাদশ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম না থাকায় প্রথম টেস্টে খেলেছিলেন তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেন। তিনজনই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। এবার ম্যাকাইয়ের উইকেট বিবেচনায় চার পেসার নিয়েও ভাবতে হচ্ছে প্রধান কোচ ফিল সিমন্সকে।
নাহিদের চোটের পর শরিফুলও হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় পড়ায় ছুটি বাতিল করে এবাদতকে দলে নেওয়া হয়েছিল। ডারউইন টেস্টে সুযোগ পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই পেসার। প্রথম ইনিংসে মার্নাস লাবুশেন ও অ্যালেক্স ক্যারির উইকেট নেন তিনি। অন্যদিকে ম্যাচসেরা হাসান মাহমুদের সঙ্গে তাসকিনও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি করেন।
দ্বিতীয় টেস্টের আগে শরিফুল পুরোপুরি সুস্থ হয়ে দলের সঙ্গে অনুশীলন করছেন। তবে তাকে সরাসরি একাদশে ফেরানোর ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি সিমন্স। ম্যাকাইয়ের উইকেট দেখে চার পেসার নিয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি। অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স বলেন, ‘দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশ আমরা কাল ঠিক করব। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’
শরিফুলকে ফেরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শরিফুল অবশ্যই ভিন্ন কিছু যোগ করে দলে। কিন্তু আমরা মাত্রই একটি টেস্ট জিতেছি, আর আমি সাধারণত জয়ী একাদশ পরিবর্তন করতে পছন্দ করি না।’
পেস বোলিংয়ে বাংলাদেশের হাতে পর্যাপ্ত বিকল্প থাকায় স্বস্তিতে আছেন সিমন্স। তার ভাষায়, ‘আমাদের এখানে আরও ফাস্ট বোলার আছে। আমাদের পাঁচজন ফাস্ট বোলার সবসময় ছিল। তাই পছন্দের সুযোগ সবসময়ই ছিল। গত ম্যাচে আমরা তিনজনকে নিয়েছি। কাল এই ম্যাচের জন্য সিদ্ধান্ত নেব।’
ম্যাকাইয়ের উইকেট নিয়েও ইতিবাচক সিমন্স। ঘাসের আস্তরণ থাকলেও পিচটি ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হবে বলে মনে করছেন তিনি। ‘পিচ বেশ ভালো মনে হচ্ছে। ঘাসের সুন্দর আস্তরণ আছে এবং পিচ শক্ত। এটি একটি চমৎকার টেস্ট উইকেট। প্রতিটি উইকেটই ব্যাটারদের জন্য ভালো, তবে আপনি সেখানে কীভাবে ব্যাটিং করছেন সেটাই আসল।’
ডারউনে ৯ উইকেটের জয় পেলেও দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার পাল্টা আক্রমণ নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ। স্বাগতিকরা ঘুরে দাঁড়াতে নিজেদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনবে বলেই মনে করছেন সিমন্স। অস্ট্রেলিয়ার ১৩ সদস্যের ঘোষিত দলের বাইরে থেকে ম্যাট রেনশকেও দলে যুক্ত করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া আরও শক্তভাবে ফিরে আসবে। তাই আমাদের হয় পারফরম্যান্স ধরে রাখতে হবে অথবা আরও কিছুটা ভালো করতে হবে। এমনকি কিছু কিছু জায়গায় যদি আমরা ১ শতাংশ উন্নতি করতে পারি, তবে সেটাই নিশ্চিত করতে হবে। আমরা জানি তারা তাদের খেলার ধরন বদলে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে।’