লালমনিরহাটের পাটগ্রামে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মজিব উদ্দিন সেলিমকে (৪০) নামে এক মাদ্রাসার নৈশপ্রহরীকে গ্রেফতার করেছে পাটগ্রাম থানা পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির নানি বাদী হয়ে বুধবার রাতে পাটগ্রাম থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ভুক্তভোগী মেয়েটির বাবা বুড়িমারী স্থলবন্দরে পাথর ভাঙার কাজ করতে যান। এ সময় শিশুটির মা গরুর ঘাস কাটতে বাড়ির বাইরে যায়। এ সময় ভুক্তভোগী শিশুটি প্রতিবেশী অভিযুক্ত সেলিমের বাড়ির উঠানে খেলতে যায়। শিশুটির বাবা-মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত সেলিম মোবাইলে ভিডিও দেখানোর কথা বলে তাকে ফুসলিয়ে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে সেলিম বাড়ির পেছন দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় মেয়েটি রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি এসে কান্নাকাটি করে ধর্ষণের ঘটনা জানায়। এ সময় শিশুটির মা মাদ্রাসার সুপার ও সহকারী শিক্ষককে ঘটনাটি জানায়।
পরে সুপার, সহকারী শিক্ষক, শিশুটির নানি ও মা অটোভ্যানযোগে আহত শিশুটিকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। বর্তমানে শিশুটি রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পরপরই পাটগ্রাম থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে পার্শ্ববর্তী হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতার বোনের বাড়ি থেকে অভিযুক্ত সেলিমকে গ্রেফতার করে। পরে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরের দিকে সেলিমকে লালমনিরহাট আদালতে পাঠায়।
পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নাজমুল হক বলেন, শিশুটি যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। শিশুটির অবস্থা মুমূর্ষু হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাটগ্রাম থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির নানি বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দিয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার দেখিয়ে লালমনিরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।