প্রিন্ট করুন
Daily Barta Post
21-08-2026 09:09 PM

জাতিসংঘের মহাসচিব বাছাইয়ে দ্বিতীয় দফায় ভোট আজ, এগিয়ে যারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ : ১ ঘন্টা আগে
অনলাইন সংস্করণ
জাতিসংঘের মহাসচিব বাছাইয়ে দ্বিতীয় দফায় ভোট আজ, এগিয়ে যারা
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের বৈঠক। ফাইল ছবি: এএফপি

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব বাছাইয়ের জন্য শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় অনানুষ্ঠানিক ভোটের আয়োজন করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। এর মাধ্যমে সংকটে থাকা আন্তর্জাতিক সংস্থাটির নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাই করা হবে।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে। তাই নতুন মহাসচিব বাছাইয়ের জন্য গত মাসে প্রথম অনানুষ্ঠানিক ভোট হয়। এতে এগিয়ে ছিলেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান। ওই ভোটে পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী পাঁচ রাষ্ট্রসহ ১৫ সদস্য দেশ গোপনে নিজেদের মতামত দেয়।

বর্তমানে মহাসচিব হওয়ার লড়াইয়ে আরও আছেন জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, চিলির মিশেল বাশেলেত, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা, গায়ানার ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট, উগান্ডার ওলারা ওতুনু এবং সেনেগালের মাকি সাল। প্রথম দফার ভোট শেষ হওয়ার পর নতুন করে নাম লিখিয়েছেন ইকুয়েডরের ইভোনে আ-বাকি। 

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জাতিসংঘ বিষয়ক প্রধান ড্যানিয়েল ফোর্তি বলেন, প্রথম অনানুষ্ঠানিক ভোট মহাসচিব নির্বাচনের প্রাথমিক লড়াইয়ের চিত্র তুলে ধরে। দ্বিতীয় দফার ভোট থেকে বোঝা যাবে এই প্রতিযোগিতা আসলে কোন দিকে যাচ্ছে।

ড্যানিয়েল ফোর্তি আরও বলেন, জুলাইয়ের ভোটের তুলনায় এবার কিছুটা পরিবর্তন আশা করছেন কূটনীতিকরা। শুরুতে এগিয়ে থাকা প্রার্থীরা নিজেদের সমর্থন আরও সংহত করতে পারেন কি না সেদিকে সবার নজর থাকবে। তবে শুক্রবারের ভোটের পর প্রার্থীদের ব্যবধান স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম।

কারণ হিসেবে ফোর্তি বলেন, ভেটো ক্ষমতাধারী পাঁচ দেশ (যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র) তাদের অবস্থান জানাতে আরও সময় নিতে পারে। একইসঙ্গে নতুন প্রার্থীরাও এই দৌড়ে যোগ দিতে পারেন।

এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে যে প্রার্থীদের দেখছি, তাদের কাউকে নিয়ে যদি অচলাবস্থা তৈরি হয়, যদি কেউই এগিয়ে যেতে না পারেন, তাহলে আরও কিছু প্রার্থীকে এই দৌড়ে দেখা যেতে পারে।’

বাছাইয়ের প্রক্রিয়া যেমন
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে একজন প্রার্থীকে অন্তত ৯টি ভোট পেতে হবে। একইসঙ্গে তাঁর বিপক্ষে স্থায়ী সদস্যদের ভেটো থাকা যাবে না। এই দুই বাধা পার হতে পারলে সেই প্রার্থীর নাম অনুমোদনের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে।

১৯৮০-এর দশকের শুরুতে দুই প্রার্থীকে ভেটো দেওয়া নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। এ ধরনের অবস্থা যাতে পরবর্তীতে তৈরি না হয় সেজন্য চূড়ান্ত প্রার্থীকে বাছাইয়ের আগে অনানুষ্ঠানিক ভোটের ব্যবস্থা চালু হয়। স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিভিন্ন দেশের সমালোচনা থাকলেও প্রক্রিয়াটি এখনো চালু আছে।

নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য কোনো প্রার্থীর বিপরীতে তিনটি মতামতের যেকোনো একটি দিতে পারে। সেগুলো হলো- সমর্থন, বিরোধিতা অথবা কোনো মত নেই। এই প্রক্রিয়ার শুরুর দিকে ব্যালটের রং একই রকম থাকে। নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটের পর পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের জন্য ব্যালটের রং আলাদা করা হয়। ওই সময় কোনো প্রার্থীর বিপক্ষে ভেটো থাকার বিষয়টি বোঝা যায়। তবে কোন দেশ ভেটো দিয়েছে তা জানা যায় না।

জাতিসংঘের শীর্ষ পদটি বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বণ্টনের একটি রীতি আছে। সে অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা থেকে কারও মহাসচিব হওয়ার কথা।

সম্পাদক ও প্রকাশক : মাসুদ পাটওয়ারী
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ডিআইটি প্রজেক্ট, মেরুল বাড্ডা, ঢাকা - ১২১২
ফোন : 01354425362 ই-মেইল : dailybartapost@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2026 | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি