ঢাকায় অবস্থিত দুটি বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে হুমকির ঘটনায় বারিধারা ও গুলশানের পুরো কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আবু খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, চীন ও রাশিয়া তাদেরকে একটা হুমকি দিয়ে ই-মেইল করা হয়েছে। কিন্তু সেটা কোন জায়গা থেকে আসছে ওই রকম কিছু না। আমরা ধারণা করছি, এটা স্ক্যামের, ফেক।
ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি দূতাবাসগুলো নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করেছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তর এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমকে বিষয়টি অবহিত করার পর দূতাবাসগুলোর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনিটরিং আরও জোরদার করা হয়েছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার আবু খায়ের বলেন, তারা আমাদের কিছু জানায় নাই। তারা মনে হয় মিনিস্ট্রি অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্সকে জানিয়েছে। আমি অফিসিয়ালি কোনো কিছু পাই নাই। কিন্তু যখন জানছি তখন আমাদের এক্সিসটিং সিকিউরিটি মেজার সেগুলো আরও জোরদার করা হয়েছে। ওই রকম কোনো কিছু মনে করছি না। তবে এ বিষয়ে থানায় জিডি বা লিখিত কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন আবু খায়ের।
প্রসঙ্গত, ঢাকায় অবস্থিত কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইল পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূতাবাসগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে।
সিটিটিসির এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বৃহস্পতিবার দূতাবাসের সঙ্গে কথা হয়েছে। ই-মেইলে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তাতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, ঘটনা জানার পর আমাদের অফিসার দূতাবাসগুলো পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
সূত্র জানায়, গত সপ্তাহের শেষ দিকে একই ধরনের ই-মেইল পাঠিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত একাধিক দূতাবাসে হুমকি দেওয়া হয়। কোনো গোষ্ঠী আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব ই-মেইল পাঠিয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা লিখিত অভিযোগ করেনি।
গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন বলেন, হুমকির বিষয়ে তার থানায় কোন দূতাবাস থেকে অভিযোগ করা হয়নি।