ভোলার মনপুরায় মাদ্রাসাপড়ুয়া ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার পলাতক প্রধান আসামি মো. সুমনকে নাটোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারের পর শনিবার সকালে তাকে মনপুরায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার সুমন (২৭) মনপুরা উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঈশ্বরগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফার ছেলে।
র্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্পের কমান্ডার মোখলেছুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যায় নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানার নয়াবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। র্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্প, র্যাব-৫ ও সিপিসি-২-এর যৌথ অভিযানে মামলার প্রধান আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে নাটোরের বড়াইগ্রাম থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে শনিবার সকালে মনপুরা থানার পুলিশের একটি দল নাটোর থেকে সুমনকে মনপুরায় নিয়ে আসে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, “ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সুমনকে নাটোর থেকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার সকালে মনপুরায় আনা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
ঘটনার যেভাবে সূত্রপাত
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে রান্না করা তরকারি গরম করার জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে শুকনো নারকেল পাতা আনতে বাড়ির পেছনে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় পাশের বাড়ির যুবক সুমন ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক তাদের বাড়ির রান্নাঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
পরে ওই ছাত্রী ঘটনাটি তার এক বান্ধবীকে জানায়। বান্ধবী বিষয়টি ওই ছাত্রীর মাকে জানালে পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। ঘটনার ছয় দিন পর, গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার এক নারী ইউপি সদস্যের পরামর্শে সুমনকে প্রধান আসামি করে মনপুরা থানায় মামলা করা হয়।
মামলা দায়েরের পর থেকেই সুমন পলাতক ছিলেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাটোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
ধর্ষণের শিকার ব্যক্তি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় প্রতিবেদনে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।