ঢাকা | শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
     মনপুরায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ: ১৩ দিন পর প্রধান আসামি গ্রেপ্তার      যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বাড়ছে প্রতি সেকেন্ডে ৯০ হাজার ডলার      নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন তুরস্কের      ক্যাম্পাসে মেয়েরা সবচেয়ে নিরাপদ, চাঁদাবাজি শূন্যের কোঠায় এনেছি: সাদিক কায়েম      শপথ নিলেন নতুন ৪ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রী      শপথ নিলেন ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর      রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী      ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে      নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য প্রস্তুত ৬ গাড়ি      শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বাজেট বিএনপি সরকার বাস্তবায়ন করেছে: অর্থমন্ত্রী      জাতিসংঘের মহাসচিব বাছাইয়ে দ্বিতীয় দফায় ভোট আজ, এগিয়ে যারা      বঙ্গভবনে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি      জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নতুন রাষ্ট্রপতি      চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এনসিপির প্রতিনিধি দলের বৈঠক      মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান হলেন মিসবাহ আরশাদ

জেনারেটর নির্ভর বিদ্যুতে মনপুুরা, জাতীয় গ্রিডের অপেক্ষায় দ্বীপবাসী

বিদ্যুৎ ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ
জেনারেটর নির্ভর বিদ্যুতে মনপুুরা, জাতীয় গ্রিডের অপেক্ষায় দ্বীপবাসী
জনতার কথা বলে।
Daily Barta Post
ছবি: বার্তা পোস্ট

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে বিদ্যুতের তীব্র সংকট। দিনে কয়েক ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কার্যক্রমসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মনপুরার বিদ্যুৎ সংকট কেবল নিয়মিত লোডশেডিংয়ের সমস্যা নয়; এর পেছনে রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, পুরোনো অবকাঠামো এবং চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত সক্ষমতা।

মনপুরা বিদ্যুৎ সরবরাহ, ওজোপাডিকোর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা সদর হাজিরহাটে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য স্থাপিত উপকেন্দ্রের ক্ষমতা ১.৫ এমভিএ। বিপরীতে মনপুরায় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা উল্লেখ করা হয়েছে ২.৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ বর্তমান অবকাঠামোর সক্ষমতা ও সর্বোচ্চ চাহিদার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।

চার বছরেও কাটেনি সংকট

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মনপুরার বাসিন্দারা দিনে মাত্র প্রায় তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছিলেন এবং প্রায় চার বছর ধরে সংকট চলছিল। প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জেনারেটর নষ্ট থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। বিকল্প হিসেবে সোলার, আইপিএস ও ছোট জেনারেটরের ওপর নির্ভর করে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রম চালানোর চিত্রও উঠে আসে।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের এপ্রিলেও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সকালের সময়, চ্যানেল ভোলায়  প্রতিবেদনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা উঠে আসে। সেখানে পাঁচটি জেনারেটরের মধ্যে দুটি বিকল থাকার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাচ্ছেন গ্রাহকেরা।

অর্থাৎ বছরের পর বছর ধরে সংকটের মূল কারণগুলো পুরোপুরি সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটা স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নেই

মনপুরার মতো একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বিদ্যুৎ শুধু আলো জ্বালানোর বিষয় নয়। বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা।

রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে কমে যায় বেচাকেনা। ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন। চিকিৎসাসেবাতেও বিদ্যুৎ সংকট বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

গরমের সময়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি হয়ে ওঠে কষ্টকর।

সংকটের পেছনে আসলে কী?

অনুসন্ধানে পাওয়া সরকারি তথ্য ও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করলে মনপুরার বিদ্যুৎ সংকটের কয়েকটি কারণ সামনে আসে।

প্রথমত, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় কম।

দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের যন্ত্রপাতির ত্রুটি ও জেনারেটর বিকল হওয়ার ঘটনা দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করেছে।

তৃতীয়ত, দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ ও যন্ত্রপাতি মেরামতে সময় বেশি লাগতে পারে।

চতুর্থত, বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়লেও সেই অনুপাতে উৎপাদন ও বিতরণ অবকাঠামো আধুনিকায়ন হয়েছে কি না সেটিও প্রশ্নের মুখে।

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার দাবি

দীর্ঘদিনের এই সংকট থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পেতে মনপুরাবাসীর একটি বড় দাবি হলো জাতীয় গ্রিডের আওতায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

কারণ জেনারেটরনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে পুরো দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে একটি জেনারেটর বা উৎপাদনকেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প ও স্থায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

সরকারি উদ্যোগ কতদূর?

মনপুরা বিদ্যুৎ সরবরাহের সরকারি ওয়েবসাইটে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, অনলাইন নতুন সংযোগসহ বিভিন্ন সেবা সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। তবে বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানে নতুন উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, জেনারেটর প্রতিস্থাপন বা জাতীয় গ্রিডে সংযুক্তির বিষয়ে সাম্প্রতিক বিস্তারিত পরিকল্পনা সেখানে স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়নি।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী? বিকল যন্ত্রপাতি পুরোপুরি সচল করার উদ্যোগ কতদূর? বিদ্যুৎ চাহিদা ও সরবরাহ সক্ষমতার ব্যবধান কমাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? আর জাতীয় গ্রিডে মনপুরাকে যুক্ত করার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনাই বা কী?

মানুষের প্রত্যাশা

মনপুরাবাসীর দাবি, সাময়িকভাবে জেনারেটর মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ সক্ষমতা বাড়াতে হবে, পুরোনো যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন করতে হবে এবং সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে মনপুরাকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

কারণ বিদ্যুৎ এখন আর বিলাসিতা নয় শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অন্যতম মৌলিক অবকাঠামো।

মনপুরার মতো একটি সম্ভাবনাময় দ্বীপ উপজেলা যদি দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎহীন থাকে, তাহলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক। তাই সাময়িক সমাধান নয়, মনপুরার বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধান এখন সময়ের দাবি।

আবাসিক প্রকৌশলী  ইঞ্জিনিয়ার কেএম ফরিদুল ইসলাম মুঠো ফোনে জানান , “বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমাদের সবগুলো মেশিন সচল রয়েছে। তবে গ্রাহকের চাহিদা বেশি থাকায় আমরা ঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, “মনপুরাকে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য জাতীয় দরপত্রের আহ্বান করা হয়েছে। আগামী বোর্ড মিটিংয়ে একজন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। ঠিকাদার নিয়োগের পর মনপুরায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শুরু হবে এবং এক বছরের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হবে।”

এলাকা ভিত্তিক সংবাদ