ভোলার মনপুরায় সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের বায়োমেট্রিক এবং তথ্য শনাক্তকরণ কর্মসূচিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়া অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তীব্র রোদ ও দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি লাঘবে তারা কর্মসূচিতে আসা শত শত সুবিধাভোগীর মাঝে সুপেয় পানি বিতরণ করেছেন।
এই মানবিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম পালোয়ান, শাহাদুল ইসলাম শাহীন ,ও প্রতিনিধি মাধ্যমে অংশ নেন ফিরোজ মুন্সি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কার্যক্রম চালুর পর থেকেই দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ভিড় জমাচ্ছেন হাজারও ভাতাভোগী। সেবা নিতে আসা এই মানুষগুলোর বড় অংশই বয়োবৃদ্ধ, স্বামীহারা নারী এবং নানাভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার।
শনিবার (২৬ই সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে তীব্র রোদের মধ্যে পর্যাপ্ত বসার স্থান বা ছায়াযুক্ত পরিবেশ না থাকায় লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হন সুবিধাভোগীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তীব্র গরমে অনেকেই হাঁপিয়ে ওঠেন এবং অনেকে অসুস্থবোধ করতে শুরু করেন। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ ও কষ্ট প্রত্যক্ষ করে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্যোগ নেন উপস্থিত তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম পালোয়ান, শাহাদুল ইসলাম শাহূন ও ফিরোজ মুন্সি। তারা নিজ উদ্যোগে এবং নিজস্ব সমর্থকদের সাথে নিয়ে পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থানরত প্রতিটি মানুষের হাতে বোতলজাত সুপেয় পানি পৌঁছে দেন।
দীর্ঘ সময় রোদে দাঁড়িয়ে ক্লান্তি ও পিপাসায় আচ্ছন্ন থাকার পর হাতের কাছে খাওয়ার পানি পেয়ে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক প্রবীণ। সেবা নিতে আসা একাধিক সুবিধাভোগী জানান, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছিল, গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসছিল। ঠিক সে সময়ে পানি হাতে পেয়ে বড় ধরনের শারীরিক বিপদ থেকে রক্ষা পান তারা।
এছাড়া দীর্ঘ সময় সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মীদের সাথে থেকে শৃঙ্খলা ও শনাক্তকরন সম্পূর্ণ করেন দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম পালোয়ান । এতে বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তির অনেক অংশে কমে গেছে। ভাতাভোগীদের কাজের পরিধ অনেক অংশ কমে গেছে। ভাতাভোগীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা মন্তব্য করেন, সরকারি সেবামূলক কর্মসূচিতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি ছিল ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব প্রাপ্তদের। তবে কর্তৃপক্ষের সেই ঘাটতির মধ্যে প্রার্থীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও সমন্বিত মানবিক সেবা সুবিধাভোগীদের বড় ধরনের স্বস্তি দিয়েছে।
মানবিক এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও দক্ষিণ সাকুচিয়া বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম পালোয়ান বলেন , ভাতা কার্ডধারীদের প্রায় প্রত্যেকেই আমাদের সমাজের সবচেয়ে প্রবীণ ও অসহায় মানুষ। সরকারি সেবা পেতে এসে তীব্র রোদে তাদের এই কষ্ট দেখা সত্যিই পীড়াদায়ক। কেবল রাজনৈতিক বা নির্বাচনী উদ্দেশ্য নয়, একজন নাগরিক ও সমাজসেবক হিসেবে এই প্রবীণ মানুষদের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই আমি এই সুপেয় পানি বিতরণের আয়োজন করেছি। মানুষের যেকোনো মানবিক প্রয়োজনে আমরা এভাবে ভবিষ্যতেও একযোগে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি।