জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেতুমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ শীর্ষ ৭ নেতার পক্ষে দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ওই ৭ আসামির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত দুই আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি। আগামী রোববার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য রাখা হয়েছে।
আগেরদিন বুধবার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিখণ্ডন করে আসামিপক্ষের আইনজীবী ইশরাত জাহান অনি বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে থাকলেই মাঠপর্যায়ের সব কর্মীর ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এমনকি সদস্য ফরম পূরণ করা অনেকেই জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। অতএব তাদের নির্দেশে কোনো ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটেনি।
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনান, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন ব্যারিস্টার ইসরাত জাহান অনি। আর ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে রয়েছেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম।
পরে ইসরাত জাহান অনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার চার মক্কেলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন যেসব অভিযোগ এনেছে, প্রকৃতপক্ষে তেমন কোনো অংশগ্রহণ নেই। তারা আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেননি। এ ছাড়া, নির্দেশনা, উসকানি, প্ররোচনার পক্ষে অডিও-ভিডিওসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত দাখিল করলেও কোনোভাবে প্রমাণিত হয়নি যে, পরশ, নিখিল, সাদ্দাম ও ইনানরা ছাত্র-জনতাকে খুন বা আহত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আন্দোলন দমন করা মানে মেরে ফেলা নয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী বলেন, যারা নিজেদের রাজাকার দাবি করে, তাদের আমরা শেষ দেখে নেবো’ প্রসিকিউশনের অভিযোগে এমন একটি কথা আনা হয়েছে। আমরা ট্রাইব্যুনালকে বলেছি যে, শেষ করা মানে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। তাদের মেরে ফেলা নয়। কারণ আন্দোলনকারীদের মেরে ফেলার উদ্দেশ্য থাকলে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হতো না। মূলত পরিস্থিতি সামাল দিতেই এ কথা বলা হয়েছে।
যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না দাবি করে ইশরাত জাহান বলেন, অস্ত্র হাতে নিখিল ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু প্রসিকিউশন থেকে জমা দেওয়া কোনো ভিডিও বা প্রমাণাদির কোথাও আমরা এমন কিছু দেখিনি। সাক্ষীরাও এমন কথা বলেননি। এ ছাড়া, প্রশাসন থেকে অনুমোদন নিয়ে যেকোনো মিছিল করা যায়। সাদ্দাম-ইনানরাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল করেছেন। অথচ এটাকেই প্রসিকিউশন অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করতে চেয়েছে।
তিনি বলেন, মাইনুল হোসেন নিখিল একজন এমপি ছিলেন। বাংলাদেশে এমপি নন, যেকোনো মানুষই অস্ত্রের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে আমার বক্তব্য হচ্ছে- নিখিলের হাতে কোনো অস্ত্র দেখা যায়নি। রোববার এসব বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে।