ঢাকা | সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
     হুমকির খবরে ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার      ২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা      নেশা করতে বাধা দেওয়ায় স্বামী- স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা: পুলিশ      মক্কা চুক্তিতে ঢাকার নজর      গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঘোষণা      ইরান যুদ্ধে ‌‘নতুন ধাপে’ যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, পাশে চায় মিত্রদের      দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে      জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী      গোপনে কিশোরীর গোসলের ভিডিও ধারণের চেষ্টা, অতঃপর...      পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা      বাসর রাতে বিয়ের নামাজ কত রাকাত?      নিয়ম মেনে যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ড. মঈন খান      ফের ভাঙল খোয়াইয়ের বাঁধ, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার      রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, সততা-মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      থাইল্যান্ডে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলা, আগুন

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঘোষণা

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঘোষণা
জনতার কথা বলে।
Daily Barta Post
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জোটটি।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

ব্রিফিংয়ে নেতারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে লংমার্চ সফল করবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দেশবাসীও এতে অংশ নেবেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সূচনা পর্বে রাজধানীতে জনসমাবেশ হবে। পথে বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে সারাদেশে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে।

নেতারা বলেন, ১১ দলের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সরকার জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নেতারা বলেন, সরকারের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশে চাঁদাবাজি বেড়েছে, কৃষক সার পাচ্ছেন না এবং জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।   

তাদের অভিযোগ, বিরোধী দল জ্বালানি সংকট নিরসনে বিভিন্ন প্রস্তাব দিলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। সরকার বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার না করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও দাবি করেন তারা।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ১১ দলের নেতারা বলেন, গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের ঘটনায় ভারত সরকারকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দিল্লিতে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা। তবে সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চান বলে জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী মতের ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রসংসদের নেতাদের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে নেতারা বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দলীয় লোক নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নেতারা আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার কিংবা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার যেন ‘এদিক-সেদিক উঁকিঝুঁকি’ না করে। সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের দিকে সরকার ধাবিত হলে এর পরিণতি ভালো হবে না—এটি তাদের স্পষ্ট বার্তা।

দেশবাসীকে লংমার্চে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন। এতে রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক বাধা দেওয়া হলে তা প্রতিহত করে সামনে এগিয়ে যাওয়া হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে নেতারা বলেন, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যার সমাধান করাই তাদের আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য।

এলাকা ভিত্তিক সংবাদ