ঢাকা | শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
    ⊙ হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতদিনের রূপরেখা দিয়েছে ইরান     ⊙ সৈকতের বালুচরে বসে ভালোবাসার চিহ্ন আঁকছেন পারশা     ⊙ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহী চীনা ব্যাংক     ⊙ দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, দুর্ঘটনায় মন্ত্রীর মেয়েসহ নিহত ৪     ⊙ অভিনেত্রীকে বিয়ের দেড় বছর পর রেজিস্ট্রি, কারণ জানালেন অভিনেতা     ⊙ ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসি রাকিবুল গ্রেফতার, নেওয়া হচ্ছে আদালতে     ⊙ ইরানি প্রতিনিধিদল দেশে ফিরবে কীভাবে, প্রশ্ন তুললেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী     ⊙ মেঘনায় জাল পাতা নিয়ে ৪ ট্রলারে সংঘর্ষ, আহত ১০     ⊙ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত ইয়ামি     ⊙ জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের চাপ ছিল : রিজভী     ⊙ সরকার-বিরোধীদলের যতই মতানৈক্য ঘটুক, ফ্যাসিবাদ যেন ফিরে না আসে : রিজভী     ⊙ ৪৭ নেতাকর্মীকে নিজ খরচে ওমরায় পাঠালেন লুৎফুজ্জামান বাবর     ⊙ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রপতির আহ্বান     ⊙ আলোচনায় অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার চব্বিশের ফেসবুক পোস্ট     ⊙ সরকারকে দোষ দেই না, নানা খরচে সরকার বিপর্যস্ত : রুমিন ফারহানা

শত বছর পর মার্কিন মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি

১ ডলারের কয়েনে ট্রাম্প
শত বছর পর মার্কিন মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি
জনতার কথা বলে।
Daily Barta Post
সংগৃহীত ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখসংবলিত ছবিসহ বিশেষ ১ ডলারের একটি মুদ্রা বাজারে ছেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ২৫০ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এই মুদ্রাটি তৈরি করা হয়েছে। 
 
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে মুদ্রাটি বিক্রি শুরু হয়েছে।
 
যুক্তরাষ্ট্রের মিন্ট জানিয়েছে, সোনালি রঙের মুদ্রাটির এক পাশ বা ‘হেড’-এ রয়েছে ট্রাম্পের মুখচ্ছবি এবং অন্য পাশ বা ‘টেইল’-এ দেশটির গ্রেট সিল। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কমিশন অব ফাইন আর্টস মুদ্রাটির নকশা অনুমোদন করে। কমিশনটির সদস্যদের নিয়োগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প নিজেই।
 
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, মুদ্রায় তার মুখচ্ছবি খোদাই করার ভাবনাটি বেশ ব্যতিক্রম। তবে, এতে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। 
 
বিশেষ এই মুদ্রাগুলো বৈধ মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে মুদ্রায় জীবিত কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এমন ফেডারেল আইনের কারণে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। অবশ্য বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী বিশেষ মুদ্রা তৈরি ও বাজারে ছাড়ার অনুমোদন দিতে পারেন।         
 
যুক্তরাষ্ট্রের মিন্ট তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, ‘আমেরিকার গৌরবময় ঐতিহ্যের ২৫০ বছরকে সম্মান জানাতে’ মুদ্রাগুলো তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের মুখচ্ছবির ওপরে অর্ধবৃত্তাকারে লেখা রয়েছে ‘লিবার্টি’। নিচে লেখা রয়েছে ‘১৭৭৬ ~ ২০২৬ ’।
 
মুদ্রাটির অপর পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট সিল। এতে একটি টাকঈগলকে এক নখরে তির এবং অন্য নখরে জলপাইয়ের ডাল ধরে থাকতে দেখা যায়। ঈগলটির ঠোঁটে ধরা একটি ফিতায় লেখা রয়েছে ‘ই প্লুরিবাস উনুম’। লাতিন এই কথাটির অর্থ, ‘অনেকের মধ্য থেকে এক’।
 
মুদ্রাগুলোর রং সোনালি হলেও এতে প্রকৃত অর্থে কোনো সোনা নেই। ইউএস মিন্টের তথ্য অনুযায়ী, মুদ্রাগুলোতে ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ তামা রয়েছে। বাকি অংশ জিংক, ম্যাঙ্গানিজ ও নিকেল দিয়ে তৈরি।
 
২৫টি মুদ্রার একটি রোলের দাম রাখা হয়েছে ৬১ ডলার এবং ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগের দাম ১৫৪ দশমিক ৫০ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের মিন্ট জানিয়েছে, তারা এলোমেলোভাবে কিছু বিশেষ সংস্করণের মুদ্রা এসব রোল ও ব্যাগের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে।
 
বিশেষ মুদ্রাগুলোতে ‘জুলাই ৪’ লেখা থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণের বার্ষিকী ৪ জুলাই এসব মুদ্রা তৈরি করা হয়েছিল।
 
এখন প্রতিটি পরিবার সর্বোচ্চ দুটি অর্ডার দিতে পারবে জানিয়েছে মিন্ট। বুধবার রাতে মিন্টের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ‘পণ্যটি এখন অর্ডার করা যাবে। তবে, বর্তমানে এটি মজুত নেই। অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরির কাজ চলছে।’        
 
গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, তার বিভাগ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিকৃতিসংবলিত নতুন ২৫০ ডলারের একটি নোট চালুর পরিকল্পনা করছে। তবে, ফেডারেল আইনে জীবিত কোনো ব্যক্তির ছবি যুক্তরাষ্ট্রের কাগুজে মুদ্রায় ছাপানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ট্রাম্পের মিত্র কয়েকজন আইনপ্রণেতা এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখার জন্য আইন প্রস্তাব করেছেন। তবে, প্রস্তাবটি বর্তমানে অগ্রসর হয়নি।
 
সে সময় বেসেন্ট উল্লেখ করেছিলেন, এর আগেও একজন জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশের মুদ্রায় স্থান পেয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০ তম বার্ষিকী উপলক্ষে ১৯২৬ সালে প্রকাশিত অর্ধ ডলারের একটি মুদ্রায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের প্রতিকৃতি ছিল।
 
ট্রাম্প প্রশাসন তার প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে পাস হওয়া ‘সার্কুলেটিং কালেক্টিবল কয়েন রিডিজাইন অ্যাক্ট’-এর কথাও উল্লেখ করেছে। এই আইনে মুদ্রার পেছনের অংশ বা ‘টেইল’-এ জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সামনের অংশ বা ‘হেড’-এর ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়নি। নতুন ১ ডলারের মুদ্রায় ট্রাম্পের প্রতিকৃতি রাখা হয়েছে সামনের অংশেই।
 
অন্যদিকে, ১৮৬৬ সালের থেয়ার সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাগুজে নোটে কোনো জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে, প্রচলিত ব্যাখ্যায় এই বিধান মুদ্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
 
দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময় এ ধরনের বেশ কয়েকটি উদ্যোগ বা তার নামে বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নামকরণের চেষ্টা দেখা গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি উদ্যোগ মামলা-মোকদ্দমায়ও জড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কেনেডি সেন্টার এবং ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিসের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ। ইতিহাস ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে নিজের ছাপ রেখে যাওয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প এসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এলাকা ভিত্তিক সংবাদ