ঢাকা | মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
     সব এমপিকে ডাকো, সব জায়গায় আগুন দেবে: শেখ হাসিনা      এসএসসিতে গণফেল, শিক্ষকদের ৬ ঘণ্টা তালাবদ্ধ রেখে বিক্ষোভ      বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে লাবিব পেল গোল্ডেন জিপিএ-৫      সাবেক ডিসি খায়রুলের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ      ১১ পরীক্ষার্থীর পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থীর নামই জানেন না প্রধান শিক্ষক      শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী      শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর সুপারিশ বন্ধের গুঞ্জন, মন্ত্রী-সচিব নীরব      চাঁদপুরের মেঘনায় ঘূর্ণিস্রোতে ৪৪০০ বস্তা সিমেন্টসহ ট্রলার ডুবি      নগদের প্রধান কার্যালয়ে শুরু হলো দুইদিনব্যাপী নগদ-প্রথমা বইবন্ধন      ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় রংপুরে চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার      ছেলেকে না পেয়ে মাকে গুলি      ভুয়া কর্মকর্তা সেজে ৩৪ লাখ টাকার ভুসি আত্মসাৎ, আটক ২      মনপুরায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু      ১১ দলীয় ঐকের প্রতিনিধি দল ইসিতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ      ইয়াবাসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ঘরে বসেই থাইরয়েডের সমস্যা বুঝবেন যেভাবে

ঘরে বসেই থাইরয়েডের সমস্যা বুঝবেন যেভাবে
জনতার কথা বলে।
Daily Barta Post
ছবি: সংগৃহীত

থাইরয়েডের সমস্যা এখন অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। শরীরের ওজন হঠাৎ বেড়ে বা কমে যাওয়া, সবসময় ক্লান্ত লাগা, চুল পড়া, মাসিক অনিয়ম কিংবা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে থাইরয়েডের সমস্যা আছে কি না, তা নিয়ে সচেতন হওয়া দরকার।

থাইরয়েড হলো গলার সামনের দিকে থাকা ছোট, প্রজাপতির মতো একটি গ্রন্থি। এটি শরীরের শক্তি ব্যবহার, তাপমাত্রা, হৃদস্পন্দন, ওজনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। থাইরয়েড বেশি সক্রিয় হলে তাকে অতিসক্রিয় থাইরয়েড এবং কম সক্রিয় হলে স্বল্পসক্রিয় থাইরয়েড বলা হয়।

তবে ঘরে বসে থাইরয়েডের সমস্যা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায় না। আয়নার সামনে ঘাড় পরীক্ষা করে শুধু কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন বোঝা সম্ভব। নিশ্চিত হতে রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

ঘরে বসে ঘাড় পরীক্ষা করবেন যেভাবে

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কয়েকটি সহজ ধাপে ঘাড় পরীক্ষা করা যায়।

প্রথমে আয়নার সামনে দাঁড়ান। ভালো আলোতে দাঁড়িয়ে গলার নিচের অংশ পরিষ্কারভাবে দেখুন। থাইরয়েডের জায়গাটি চিহ্নিত করুন। এটি চিবুকের নিচে ও কলারবোনের ওপরের দিকে গলার সামনের অংশে থাকে। ঘাড় সামান্য পেছনে হেলান। এরপর এক চুমুক পানি পান করুন। পানি গেলার সময় ঘাড়ের দিকে তাকান। গলার ওই অংশে কোনো ফোলা, পিণ্ড, উঁচু হয়ে থাকা জায়গা বা অস্বাভাবিক নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে কি না, খেয়াল করুন। কয়েকবার পানি পান করে একইভাবে দেখুন। কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 থাইরয়েড কম কাজ করলে

থাইরয়েড কম সক্রিয় হলে শরীরের বিভিন্ন কাজ ধীর হয়ে যেতে পারে। তখন দেখা দিতে পারে—

  • সবসময় ক্লান্ত বা দুর্বল লাগা
  • কারণ ছাড়াই ওজন বেড়ে যাওয়া
  • ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া
  • চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা বেশি পড়া
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • মন খারাপ বা বিষণ্নতা
  • অন্যদের তুলনায় বেশি ঠান্ডা লাগা
  • মাসিক অনিয়ম
  • শরীরে শক্তি কমে যাওয়া

থাইরয়েড বেশি কাজ করলে

থাইরয়েড বেশি সক্রিয় হলে শরীরের অনেক কাজ দ্রুত হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে—

  • কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
  • হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
  • শরীর কাঁপা
  • অস্থিরতা বা দুশ্চিন্তা
  • ঘুমের সমস্যা
  • গরম সহ্য না হওয়া

যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না

ঘাড়ে দৃশ্যমান ফোলা বা পিণ্ড দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। বিশেষ করে পিণ্ড দ্রুত বড় হতে থাকলে, খাবার বা পানি গিলতে সমস্যা হলে, গলায় চাপ বা ভার অনুভূত হলে, কণ্ঠস্বর বসে গেলে কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ঘাড়ে কোনো পিণ্ড দেখা গেলেই সেটি ক্যানসার—এমন নয়। থাইরয়েডের অনেক পিণ্ড ক্ষতিকর নয়। তবে পিণ্ডের ধরন জানতে চিকিৎসকের পরীক্ষা প্রয়োজন। প্রয়োজনে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও কোষের পরীক্ষা করা হতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

থাইরয়েডের সমস্যা যে কারও হতে পারে। তবে নারীদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া ৬০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, পরিবারে থাইরয়েড রোগের ইতিহাস থাকা ব্যক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মের পরের সময়ে নারীদের ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে। শরীরে আয়োডিনের ঘাটতিও থাইরয়েড সমস্যার একটি কারণ হতে পারে।

কোন রক্ত পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়

শুধু ঘাড় দেখে বা লক্ষণ মিলিয়ে থাইরয়েডের সমস্যা নিশ্চিত করা যায় না। চিকিৎসকের পরামর্শে কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা করা হয়।

থাইরয়েড উদ্দীপক হরমোন পরীক্ষা: থাইরয়েড স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে কি না, তা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

মুক্ত থাইরক্সিন পরীক্ষা: রক্তে সক্রিয় থাইরক্সিনের মাত্রা জানতে করা হয়।

মুক্ত ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন পরীক্ষা: বিশেষ করে থাইরয়েড বেশি সক্রিয় কি না, তা বুঝতে এই পরীক্ষা করা হতে পারে।

থাইরয়েড অ্যান্টিবডি পরীক্ষা: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাইরয়েডকে আক্রমণ করছে কি না, তা বোঝার জন্য করা হয়।

কোন পরীক্ষা প্রয়োজন এবং পরীক্ষার ফলাফলের অর্থ কী—তা চিকিৎসকই ঠিক করবেন।

ঘরে পরীক্ষা কেন যথেষ্ট নয়

ঘাড়ে কোনো ফোলা বা পিণ্ড না থাকলেও থাইরয়েডের সমস্যা থাকতে পারে। আবার ঘাড়ে সামান্য পরিবর্তন দেখা গেলেও সেটি থাইরয়েডের সমস্যা নাও হতে পারে। তাই ঘরে বসে করা পরীক্ষা শুধু প্রাথমিকভাবে সতর্ক হওয়ার একটি উপায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্লান্তি, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, মাসিকের অনিয়ম, চুল পড়া, হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পরিবারে থাইরয়েড রোগের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে সেটি দীর্ঘদিন অবহেলা না করাই ভালো। সময়মতো পরীক্ষা করলে থাইরয়েডের সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।
 

সূত্র: এনডিটিভি

এলাকা ভিত্তিক সংবাদ