ঢাকা | সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
     সাবেক ডিসি খায়রুলের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ      ১১ পরীক্ষার্থীর পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থীর নামই জানেন না প্রধান শিক্ষক      শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী      শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর সুপারিশ বন্ধের গুঞ্জন, মন্ত্রী-সচিব নীরব      চাঁদপুরের মেঘনায় ঘূর্ণিস্রোতে ৪৪০০ বস্তা সিমেন্টসহ ট্রলার ডুবি      নগদের প্রধান কার্যালয়ে শুরু হলো দুইদিনব্যাপী নগদ-প্রথমা বইবন্ধন      ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় রংপুরে চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার      ছেলেকে না পেয়ে মাকে গুলি      ভুয়া কর্মকর্তা সেজে ৩৪ লাখ টাকার ভুসি আত্মসাৎ, আটক ২      মনপুরায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু      ১১ দলীয় ঐকের প্রতিনিধি দল ইসিতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ      ইয়াবাসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার      প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী      বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমেছে ৩১৫টি      সড়ক দুর্ঘটনায় সহকারী জজ নিহত

১১ পরীক্ষার্থীর পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থীর নামই জানেন না প্রধান শিক্ষক

১১ পরীক্ষার্থীর পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থীর নামই জানেন না প্রধান শিক্ষক
জনতার কথা বলে।
Daily Barta Post
ছবি: সংগৃহীত

‎পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র একজন। অথচ বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন ১১ জন শিক্ষক। এমন ফলাফলে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। গত বছরও প্রায় একই ধরনের ফলাফল হয়েছিল। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে আটজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছিলেন মাত্র একজন।

‎স্থানীয়রা আরও জানান, বিদ্যালয়ের নথিতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতির সংখ্যা অনেক কম। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ-ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসে না বলে তাদের অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতির পাশাপাশি শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছেন কি না এবং যথাযথভাবে পাঠদান করছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

‎সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ সময়েও বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

‎বিদ্যালয় অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১১ জন শিক্ষক, একজন ক্লার্ক ও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে মোট জনবল ১৩ জন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারকে প্রতি মাসে তিন লাখ টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়।

‎এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, ১১ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন কেন উত্তীর্ণ হলেন? শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত করা, পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলা এবং মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

‎বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পর্ষিয়া রানী হালদার জানান, চলতি বছর বিদ্যালয় থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছরও আটজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে একজন পাস করেছিল।

‎পাস করা শিক্ষার্থীর নাম ও ফলাফল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন মনে নেই, পরে জানাব।’

‎এতসংখ্যক শিক্ষক থাকার পরও এমন ফলাফলে তিনি দুঃখিত কি না জানতে চাইলে পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, ‘দুঃখ কিসের। শিক্ষার্থীদের চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যাচ্ছে না। তারা ঠিকমতো না পড়লে আমাদের দোষ কী?’

‎তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত করা এবং পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের নয়; এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

‎তাদের দাবি, বিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের দুরবস্থার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদানের মান এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

‎স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং প্রতিষ্ঠানটিতে কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।

এলাকা ভিত্তিক সংবাদ